মহালছড়িতে জমি নিয়ে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২০

28

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ভূমি বিরোধের জের ধরে উপজাতি-বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনায় ২০-২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে সবাই বাঙালি।

নতুন করে যাতে এই দুই গ্রুপের মধ্যে যাতে সংঘর্ষ না হয় সেজন্য এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের ক্যায়াংঘাট গুচ্ছগ্রামে উপজাতি ও বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ ছিলো। গত ৯ ডিসেম্বর ক্যায়াংঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চাকমা উভয় পক্ষের সদস্যদেরকে ডেকে সীমানা নির্ধারণ করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন।

Advertisement

কিন্তু রবিবার বিজয় দিবস উদযাপান উপলক্ষে বাঙালিরা ব্যস্ত থাকাকালে দুপুরে হঠাৎ করেই উপজাতিদের কয়েকজন  তাদের নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে বাঙালিদের ভূমিতে ঘর নির্মাণ করতে আসলে বাঙালিরা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে।  এক পর‌্যায়ে  আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা আনুমানিক ২০০- ২৫০ জন উপজাতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাঙালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ২০-২৫ জনকে কুপিয়ে  আহত করে।

এসময় মৃত আকেজ আলীর ছেলে মো. আলী হোসেনের (৫৫) একমাত্র বসত ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেলে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আলী হোসেন জানায়।

উপজাতিদের হামলায় আহতদের মধ্যে মো. খলিল (৩৫), মো. হাফেজ (৩৭), মো. সবুর(৪২) এবং মো. আয়নাল হককে গুরুতর আহত অবস্থায় খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মহালছড়ি জোনের জোন উপ-অধিনায়ক মেজর রবিউল  ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম এবং মহালছড়ি থানা থেকে এসআই কামালের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে গেলে পাহাড়িরা পালিয়ে যায়।

মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম ফকির জানান, এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। কোনো অভিযোগ করা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

নুরে আলম ফকির বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

Advertisement
SHARE