গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার কামারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর তিনি এডহক কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা করে ১০ জন শিক্ষক কর্মচারি নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া ওই বিদ্যালয়ের এমএলএস আহম্মদ আলী ভোটার আইডি কার্ডের জন্মতারিখ পরিবতন করে ৬০ বছর চাকরি মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও তাকে অবৈধভাবে গত কয়েক বছর ধরে চাকরিতে বহাল দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে চোখে স্বল্পতা দেখা এবং বার্ধক্যের কারণে বিদ্যালয়ে হাজির না হলেও তার নাতিকে দিয়ে স্কুলের কাজ চালানো হচ্ছে দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে। প্রধান শিক্ষক এক্ষেত্রে উক্ত এমএলএস’র সাথে একটি গোপন যোগসাজসের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তহবিল থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেন। অপরদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ না করে এবং বিদ্যালয় ফান্ডে জমা না দিয়ে তিনি সম্পুর্ণ টাকা গত কয়েক বছর ধরে আত্মসাৎ করে আসছেন। এছাড়া বিনামূল্যে বই বিতরণের নিয়ম থাকলেও প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রত্যেক ছাত্রীর কাছ থেকে কেরিংকস্ট বাবদ ১০ টাকা হারে ফি আদায় করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের গাফলতির কারণে বিদ্যালয়ের কাঁধে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া জমেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গভর্ণিংবডির সভায় প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। 

আপনার মন্তব্য লিখুন