প্লাস্টিক ফেলে ব্যবহার করুন ফ্যাশনেবল স্টিলের পানির বোতল, সুরক্ষিত রাখুন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ

446

লাইফস্টাইল ডেস্ক : দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন স্টেইনলেস স্টিলের বোতল পাওয়া যায়। এসব নন-টক্সিক বোতল যে রাসায়নিক উপাদানে তৈরি হয়, সেগুলো সাধারণত পানিতে মেশে না। এগুলো কম ওজনের এবং নিশ্চিন্তে কয়েক বছর ব্যবহার করা যায়। আর ব্যবহার শেষে ফেলে দিলেও শতভাগ প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব

অফিসের ডেস্কে সর্বদাই যে উপকরণটি থাকে, তা হলো পানির বোতল। আর এ বোতলটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে প্লাস্টিকের। শুধু পানিই নয়, ডিটক্স ওয়াটার ও ফলের রস ফ্রিজে সংরক্ষণের জন্যও ব্যবহার হয় প্লাস্টিকের বোতল। যদিও আমরা জানি, প্লাস্টিকের এসব বোতল স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য খুব একটা নিরাপদ নয়। প্লাস্টিকের বোতল স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, এটি উৎপাদনে যে প্লাস্টিক ব্যবহার হয়, তাকে পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক পলিথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি) বলে। এখানেই শেষ নয়, এসব বোতল উৎপাদনে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই বছরে ব্যবহূত হয় দেড় মিলিয়ন ব্যারেল তেল।

ফলে এ কথাও মাথায় রাখতে হবে, প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি উৎপাদন ও পরিবহন প্রক্রিয়ায় অপচয় হয় জ্বালানি। পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব তো পড়েই।

Advertisement

বর্তমানে উন্নত দেশগুলো প্লাস্টিকের বোতল পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করার প্রচেষ্টায় রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রেও দেখা গেছে, যে পরিমাণ প্লাস্টিকের বোতল আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেয়া হয়, তার কেবল ২০ শতাংশই প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

পরিবেশ ছাড়াও স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও প্লাস্টিকের বোতলের পানি স্বাস্থ্যকর নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্যমতে, বোতলজাত পানি দীর্ঘদিন ধরে গুদামজাত করা হয়। ফলে এতে অনেক অণুজীব থাকতে পারে। ফলে তা গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর।

আর তাই এমন বোতলে পানি পান করা জরুরি, যা নির্ভরযোগ্য ও পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন স্টেইনলেস স্টিলের বোতল পাওয়া যায়। এসব নন-টক্সিক বোতল যে রাসায়নিক উপাদানে তৈরি হয়, সেগুলো সাধারণত পানিতে মেশে না। এগুলো কম ওজনের এবং নিশ্চিন্তে কয়েক বছর ব্যবহার করা যায়। আর ব্যবহার শেষে ফেলে দিলেও শতভাগ প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। আবার অফিসে ব্যবহারের জন্য খুব ভালো সমাধান সিগ বোতল। হালকা ওজনের এ বোতলগুলো তৈরি খাঁটি অ্যালুমিনিয়াম থেকে। এতে কোনো টক্সিক লেয়ার নেই। আর ব্যবহার করা হয়ে গেলে খুব সহজেই তা রিসাইকেল করা সম্ভব।

এসব দিক বিবেচনায় পুনরায় ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। এখানে একই বোতলে পানি পাল্টে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। তবে দোকান থেকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বোতল কেনার সময় বোতলের গায়ে লেখা নির্দেশনা পড়ে নিতে হবে। বোতলটি ঠিক কতবার ব্যবহার করা যাবে, তা জেনে রাখা খুবই জরুরি। এ ধরনের বোতল দু-একদিন পরপর গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। মাঝে মধ্যে বোতলের অর্ধেকটা ভিনেগার ও বাকিটা পানি ভরে সারারাত রেখে দিন। এরপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নাশ হবে। বোতলটি হয়ে উঠবে আরো স্বাস্থ্যকর।

 

সূত্র: সাসটেইনেবল বেবি স্টেপস

Advertisement
SHARE