Home / জাতীয় / প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেড়েছে কর্মঘণ্টা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেড়েছে কর্মঘণ্টা

ছবি সংগৃহীত

এ এম জিয়াউর রহমান: একসময় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকগণ সকালে হালচাষ করে তারপর স্কুলে আসতেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয় নিজস্ব পদ্ধতিতেই শিক্ষাদান করতেন। তাদের ছাত্ররা মৌলিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতো, দেশের বড় বড় পদগুলো তারাই অলংকৃত করতেন। তখন শিক্ষকদের উপর উপরি চাপ ছিলনা। শিক্ষককে সবাই সম্মানের চোখেই দেখতো। একদুপুর ক্লাস নিয়ে বিকালে গিয়ে ধানচাষ করলেও মানুষ সেটাকে খারাপ ভাবত না।

এই তো কিছুকাল আগেও শিক্ষকগণ ১০টা থেকে ৪টা ক্লাস নিয়েই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে এমডিজি অর্জন করে বিশ্ব দরবারে দেশকে সম্মানিত করেছিল।তারপর আমাদের উর্বর মস্তিষ্কের তাড়নায় ৯:৩০ থেকে ৪:১৫ পর্যন্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। এভাবেই চলছিল প্রাথমিক শিক্ষা।তারপর আবারো নতুন চেতনা জাগ্রত হলো, শিক্ষার্থীদের আরো অতিরিক্ত ১৫ মিনিট শিক্ষার কাজে বাপিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। এখন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে ৯ টায় চলে যায় সাড়ে ৪টায়। এভাবে দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘণ্টা শিশুদের শিক্ষাগ্রহণে বাধ্য করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। শিশুরা বিরতি পায় ৩০ মিনিট যা খাওয়ার পিছনে ব্যয় হয়, তারা খেলাধুলার পর্যাপ্ত সময় পায় না।

এবার আসা যাক শিক্ষক প্রসঙ্গ। প্রাথমিকে ৬০% মহিলা শিক্ষক। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেবী দুর্গার ন্যায় দশহস্তে কাজ করে সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে হাজির হতে হয় এবং দীর্ঘসময় শ্রেণি পাঠদান শেষে ৪:৩০টায় বিদ্যালয় ছুটি হলেও বিভিন্ন কাজকর্ম সেরে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে করতে ৫টা বেজে যায়। দুপুরে শিক্ষকেরা বিরতি পান আধা ঘণ্টা। এই অল্প সময়ে জোহরের নামায আদায় শেষে লাঞ্চ সেরে আবারো পাঠদান শুরু করা কতটা কঠিন এটা শুধু শিক্ষকেরাই জানে।

বৃহস্পতিবার বলা হয় হাফ স্কুল। কিন্তু শিক্ষকের জন্য তা কোনভাবেই নয়। কারণ বৃহস্পতিবার থাকে স্টাফ মিটিং, পাক্ষিক মিটিং, পিডিএম মিটিং, এস এম সি মিটিং, পিটিএ মিটিং সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের নির্ধারিত দিন। তাই সেদিনও ইচ্ছা করলেও আগেভাগে বাড়িতে যাওয়া সম্ভব হয়না। তার মানে সোজা কথা শনি থেকে বৃহস্পতি বিরতিহীনভাবে চলছে একজন শিক্ষকের শিক্ষাদান সংক্রান্ত কার্যক্রম। আর এভাবেই প্রাথমিক শিক্ষকেরা আজ সংসার বিহীন সন্ন্যাসী হওয়ার উপক্রম।

অথচ একই সরকারি কর্মচারী যারা অফিসে কাজ করেন তারা সপ্তাহে দুইদিন ছুটি ভোগ করেন। তারা টিফিন ও নামাজের জন্য একঘণ্টা সময় পান। বছর শেষে তারা আবার নন ভ্যাকেশন কর্মচারী।

তাই শিক্ষকদের যদি প্রতিদিন ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাজ করতেই হয়, তাহলে অবশ্যই নামাজ এবং খাবারের জন্য একঘণ্টা বিরতি দেয়া সময়ের দাবি। সেই সাথে সপ্তাহে দুইদিন ছুটিসহ প্রাথমিক শিক্ষাকে ননভ্যাকেশন ঘোষণা করা বড়ই প্রয়োজন।

সুতরাং আমরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ন্যায় সমান কাজ করতে চাই। সমান সুযোগ সুবিধা চাই। এর কোন ব্যতিক্রম কখনো সুফল বয়ে আনতে পারেনা। তাই বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা বিশেষ প্রয়োজন।

লেখক: কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি, বাসপ্রাবি প্রধান শিক্ষক সমিতি

Check Also

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন অভিনেত্রী জাহানারা ভূঁইয়া

ছবি : সংগৃহীত বিনোদন ডেস্ক : গুণী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জাহানারা ভূঁইয়া। একাধারে গীতিকার ও নির্মাতা …