গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা দিবসে শোক র্র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত


গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামার এলাকায় আজকের এই দিন গত বছর ৬ নভেম্বর/১৬ সকালে মিলের আখ কাটা কে কেন্দ্র করে পুলিশ, শ্রমিক ও আদিবাসী সাওঁতাল সংঘর্ষে ৩ জন সাওঁতাল পুলিশের গুলিতে নিহত সহ কয়েকজন পুলিশ তীর বৃদ্ধ হওয়ায় ঐ দিন সন্ধ্যায় মিল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ যৌথ ভাবে সাওঁতাল পল্লীতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে। ঐ ঘটনার দিনকে সাঁওতাল হত্যা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।
ঐ ঘটনাকে অনুসরন করে বাপ দাদার জমি ফিরিয়ে পাওয়ায় ও ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং শাস্তির দাবীতে আজ ৬ নভেম্বর সাঁওতাল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বিশাল শোক র্র্যালী সকাল ১১টায় হাজার হাজার সাওঁতাল অংশ নিয়ে ইক্ষুখামার এলাকার সড়ক গুলি প্রদক্ষিন শেষে সাপমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এক সমাবেশ মিলিত হয়।

সাহেবগঞ্জ – বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি,জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, আদিবাসী বাঙ্গালী সংহতি পরিষদ,জনউদ্যোগ গাইবান্ধার যৌথ আয়োজনে দিবস পালন বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করে ।
শোক র‌্যালীটি সাঁওতাল পল্লী জয়পুর ও মাদারপুর গ্রাম থেকে বের হয়ে ঢাকা- রংপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিন করে সাপমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে তারা নিহতদের স্মরণে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান, ঐক্য ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাড. জেড আই খান পান্না, মানবাধিকার ও ভূমি অধিকার কর্মী শামসুল হুদা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুল, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ গাইবান্ধার আহবায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জনউদ্যোগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব তারিক হোসেন, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, মানবাধিকার কর্মী শাহ ই মবিন জিন্নাহ্্, অ্যাড. মুরাদজ্জামান রব্বানী, আদিবাসী নেত্রী রিনা মার্ডি, প্রিসিলা মুর্মু, আদিবাসী নেতা বার্নাবাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন গত ৬ই নভেম্বর ২০১৬ মহিমাগঞ্জ সুগার মিল কর্তৃপক্ষ বেআইনীভাবে আদিবাসীদের নির্মিত বসতবাড়ি, ফসলাদি ও মৎস্যখামারে পুলিশ, প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের দ্বারা উচ্ছেদের নামে নিরীহ আদিবাসীদের উপর হামলা বসতবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং বর্বরোচিতভাবে গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে ও নির্যাতনে শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু নিহত এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়। সেসময় গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেককে গ্রেফতার করে। এমনকি পুলিশ আদিবাসী-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে অনেককে গ্রেফতার ও নির্যাতন করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এদিকে গত বছর ৬ নভেম্বর তিন সাঁওতাল শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ হত্যাকান্ড ঘটনার পর থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে স্থানীয় ৩৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্ত গত এক বছর পেরিয়ে গেলেও সাঁওতাল হত্যার আসামী সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আকন্দসহ অন্যান্য মূল আসামীদের কেউই গ্রেফতার হয়নি। এছাড়া সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামারের সাঁওতালদের বসবাসকৃত ১ হাজার ৮শ’ ৪২ একর পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত দেয়ার ব্যাপারে কোন অগ্রগতি হয়নি। উপরন্ত মিল কর্তৃপক্ষ ও একটি স্বার্থন্বেসী মহল সাঁওতালদের ভিন্নস্থানে পুনর্বাসনের কথা বলে সাঁওতালদের এই পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সমাবেশে অবিলম্বে আদিবাসী সাঁওতালদের পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত প্রদান, সাঁওতাল হত্যা, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদসহ দোষী দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।


Like it? Share with your friends!

0
, 0 points

Your Comment Here

গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা দিবসে শোক র্র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

log in

reset password

Back to
log in
%d bloggers like this: